ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সতর্কবার্তা
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ফারাক্কা বাঁধ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা-পদ্মা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। চুক্তি নবায়নের আগে পশ্চিমবঙ্গের পানিসম্পদ, বন্দর ও শিল্প খাতের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়ার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ কমিটির বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধিরা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। এ সময় রাজ্যের পানি ও শিল্প খাতে গঙ্গার পানির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেন, নতুন কোনো চুক্তি হলে রাজ্যের ন্যায্য পানির চাহিদা যেন পর্যাপ্তভাবে সুরক্ষিত থাকে, সেটিই তাদের প্রধান উদ্বেগ। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ভাগীরথী-হুগলি নদীতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের মতে, ফারাক্কা ব্যারেজের মাধ্যমে ভাগীরথী-হুগলি নদী ব্যবস্থায় শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে গেলে নৌপথে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। পাশাপাশি ফারাক্কা ব্যারেজের উজান ও ভাটিতে থাকা মালদা, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্রতিবছর নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ে।
পশ্চিমবঙ্গের ওই কর্মকর্তা বলেন, গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত পলি জমার প্রভাব শুধু নদীর স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব নৌচলাচল ও বন্দর কার্যক্রমেও পড়ছে। ভবিষ্যৎ পানিবণ্টন আলোচনায় এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
অতিরিক্ত পলি জমার কারণে বিভিন্ন এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে জাহাজ চলাচলেও নাব্যতা সংকটের প্রভাব পড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া এবং আর্সেনিক দূষণের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরেছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যটির দাবি, গঙ্গার পানি এখন শোধনের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ, সেচ এবং শিল্প খাতের বিভিন্ন কাজে ক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ পানিবণ্টন চুক্তিতে রাজ্যের বাড়তি পানির চাহিদার পাশাপাশি নদীভাঙন, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং ভাটির অঞ্চলে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।
বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় গঙ্গার পানি সেচে ব্যবহারের পাশাপাশি পরিশোধন করে পানীয় জল হিসেবে সরবরাহ করা হয়। শিল্প খাতেও এ পানির ব্যবহার রয়েছে। ফলে নতুন চুক্তি নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ আলোচনায় পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। চুক্তিটির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)