Logo
×

Follow Us

জাতীয়

রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম

রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সংগৃহীত ছবি

মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর করতে রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDMS) চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রোববার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বোর্ডরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করা হয়। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের সহযোগিতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাংলাদেশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি, এসসিও (এসসিও) জাহাঙ্গীর হোসেন এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের কাউন্সেলর রুবেন গ্রে। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান। আরডিএমএসের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা তুলে ধরেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারিকুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পুনরেকত্রীকরণ কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় আরডিএমএস যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। এই প্ল্যাটফর্মে দেশে ফিরে আসা ব্যক্তি ও সারভাইভারদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে।

তিনি জানান, আরডিএমএস ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ডাটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। শিশুদের সঠিকভাবে শনাক্ত করার লক্ষ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সেবার সঙ্গে সিস্টেমটির সমন্বয়ের কাজও চলছে।

অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত এই উদ্যোগ মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় আরডিএমএস তৈরি করা হয়েছে। সিস্টেমটির উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সহযোগিতা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এটি একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সহজ হবে।

মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালানসহ বিভিন্ন কারণে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরাতে জাতীয়তা যাচাই, পুলিশ রেকর্ড পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মতো একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এতদিন এসব কার্যক্রমের বড় অংশ কাগজপত্র ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সময় লাগত।

আরডিএমএসের মাধ্যমে এসব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা যাবে। পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় বাড়বে, জাতীয়তা ও পুলিশ রেকর্ড যাচাই দ্রুত করা সম্ভব হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তথ্যের নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

নতুন এই সিস্টেমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ থাকবে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও নির্ধারিত ও সমন্বিত পদ্ধতিতে প্রত্যাবাসনের আবেদন করতে পারবে। জাতীয়তা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানও হবে আরও সহজ ও দ্রুত।

ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাকেও আরডিএমএসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশা, এই ব্যবস্থা চালুর ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি বিদেশ থেকে দেশে ফেরা নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, সমন্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরডিএমএস উন্নয়ন ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন