Logo
×

Follow Us

জাতীয়

আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। দেশের বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে এসব শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক বিনা খরচে নেওয়ার কথা জানিয়েছে মালয়েশিয়া।

রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহদা বিন ওসমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহিদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে পর্যায়ক্রমে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হতে পারে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের বিষয়গুলো নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের প্রায় আট লাখ নিবন্ধিত শ্রমিক রয়েছেন। অনিবন্ধিত বাংলাদেশি শ্রমিকদেরও নিবন্ধনের আওতায় আনার বিষয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দুই দেশের শিক্ষা সম্পর্কের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী বাংলাদেশের ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে বাংলাদেশে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল, সৌর প্যানেলের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং হালাল ফুড খাতে প্রায় দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান মীর শাহে আলম। এসব বিনিয়োগের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকার সড়কে ই-রিকশা বা ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, মূল সড়কে ই-রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। রাজধানীকে আটটি জোনে ভাগ করে অভ্যন্তরীণ সড়কে এসব যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, ঢাকা শহরে দুই ও চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ছয় যাত্রী ধারণক্ষমতার কোনো ই-রিকশাকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন দেওয়া হবে না। তবে গ্রামীণ এলাকা ও জেলা শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কে দুই, চার ও ছয় যাত্রী ধারণক্ষমতার যান চলাচলের সুযোগ রাখা হবে। এসব যানকে বুয়েট ও অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদপ্রাপ্ত নকশা অনুযায়ী তৈরি হতে হবে।

ই-রিকশা নীতিমালা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভেটিংয়ের জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে নীতিমালা জারি করা হবে। এর মাধ্যমে ই-রিকশা ও ইলেকট্রিক রিকশাকে একটি নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হবে।

বৈঠকে মালয়েশিয়ার সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত রাবার কার্পেটিং প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশে পলিমার মডিফাইড বিটুমিন বা রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারে কারিগরি সহায়তা দিতে মালয়েশিয়া সম্মত হয়েছে বলে জানান মীর শাহে আলম। বৃষ্টিপ্রবণ দেশ মালয়েশিয়ায় সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে কার্পেটিংয়ের সঙ্গে রাবার ব্যবহারের এ প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়।

মন্তব্য করুন