নিজের গুমের রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ
আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। এ উপলক্ষে আলোচনায় এসেছে বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদর গুমের ঘটনা। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। এর আগে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে তিনি দলের মুখপাত্র হিসেবে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি ও বিবৃতি প্রচার করছিলেন। দুই মাসের বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তার সন্ধান পাওয়া যায়।
সালাহউদ্দিনকে গুমের আগে তিনি কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে উত্তরার ওই ফ্ল্যাটে পৌঁছেছিলেন, তার একটি বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজন সৈয়দ হাবিব হাসনাত। সে সময় তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সালাহউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও নজরদারি বাড়ানো হয়। নিরাপত্তার কারণে তিনি গুলশানের একাধিক ফ্ল্যাটে অবস্থান পরিবর্তন করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
হাবিব হাসনাত জানান, পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠলে সালাহউদ্দিনকে গুলশান থেকে সরিয়ে উত্তরায় তার ফ্ল্যাটে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তিনি নিজেই গাড়ি নিয়ে গুলশান থেকে সালাহউদ্দিন ও বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়ালকে উত্তরায় নিয়ে যান। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশের চেকপোস্ট এড়িয়ে বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে তারা ফ্ল্যাটে পৌঁছান। সেখানে আগে থেকেই বাবুর্চি ও সহকারীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।
এরপর ওই ফ্ল্যাট থেকেই সালাহউদ্দিন দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা পাঠাতেন। এভাবেই চলছিল তার আত্মগোপনের সময়। তবে ১০ মার্চ সন্ধ্যার পর উত্তরার পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন হাবিব হাসনাত। তার বর্ণনা অনুযায়ী, এলাকায় অনেক সড়কের বাতি বন্ধ ছিল, দোকানপাটও বন্ধ ছিল এবং আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায়। ফ্ল্যাটে গিয়ে তিনি দরজা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। ভেতরে থাকা বাবুর্চি ও সহকারী কান্নাকাটি করে জানান, ‘মেহমানকে তুলে নিয়ে গেছে।’
ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত হয়ে পড়েন হাবিব হাসনাত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্ত্রীকে নিয়ে দ্রুত বিমানবন্দরে চলে যান এবং পরে দেশের বাইরে অবস্থান করেন। সেখান থেকে সালাহউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও তার উত্তরার বাসা থেকে তুলে নেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার ক্ষেত্রে চাপ ও হুমকির মুখে পড়ার কথা তিনি জানান।
সালাহউদ্দিনকে তুলে নেওয়ার আগে ৭ মার্চ তার দুই চালক শফিক ও খোকন এবং ব্যক্তিগত সহকারী ওসমান গণিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরদিন তার সন্ধানে গুলশানের একটি ব্যাংক ও ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। এরপর ১০ মার্চ উত্তরার ফ্ল্যাট থেকে তাকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই এলাকার নিরাপত্তাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছিল।
এরপর দীর্ঘ ৬২ দিন নিখোঁজ থাকার পর ভারতের মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের সন্ধান পাওয়া যায়। তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস প্রতি বছর ৩০ আগস্ট পালিত হয়। জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি এবং গুমের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই দিবসটি পালন করা হয়। ২০১১ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ভিকটিম ফার্স্ট, অ্যাকশন নাও’—অর্থাৎ ভুক্তভোগীকে অগ্রাধিকার দিয়ে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)