Logo
×

Follow Us

জাতীয়

২০২৮ শিক্ষাক্রমে বড় সংস্কার আসছে: মাহদী আমিন

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৩ এএম

২০২৮ শিক্ষাক্রমে বড় সংস্কার আসছে: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন করে শিক্ষাক্রম সাজিয়ে মেধা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহদী আমিন বলেন, কৃত্রিমভাবে ভালো ফলাফল দেখানোর প্রবণতা বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের সংস্কার আনার আগে অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজন অনুযায়ী সংযোজন, বিয়োজন ও পরিমার্জন করা হচ্ছে। আগামী বছর থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন বিষয় ও বই যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল মূল্যায়ন প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়িয়ে দেখানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে এবার শিক্ষার্থীদের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এবারের পরীক্ষায় কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি এবং শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত ফল পেয়েছে।

অকৃতকার্য ও শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এসব তরুণকে বোঝা হিসেবে না দেখে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় আনা হবে। টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে তাদের যুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে উদ্যোক্তা তৈরিতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

বেকারত্ব কমাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। এই ব্যবস্থায় তরুণ-তরুণীরা নিজেদের দক্ষতার তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন এবং চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান শিক্ষা উপদেষ্টা। ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে সব স্তরের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও শিক্ষকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার পরিধি বাড়াতেও সরকার কাজ করছে বলে জানান মাহদী আমিন। স্থানীয় শিল্পের বাস্তব সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে ‘ব্রেন ড্রেন’ কমিয়ে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষণায় সরকারি বরাদ্দও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গ্রাম ও শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৈষম্য কমাতে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা চালুর কথাও উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এবং ‘ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন’ রয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার লক্ষ্য রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়; বরং দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের নতুন শিক্ষাক্রম দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্তব্য করুন