ঢাকার তিন বস্তি পুনর্বাসনে চীনের সহায়তা দেবে: মীর শাহে আলম
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:২০ পিএম
ছবিঃ বাসস
ঢাকার কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তি এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনে চীনের সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় আধুনিক আবাসন নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) মাধ্যমে চীনের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। চীনের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে সম্মতির কথাও জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহিদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম জানান, প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্পের আওতায় কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ২০ তলা ভবন নির্মাণ করে ছোট ছোট ইউনিটের ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। এসব ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের কাছ থেকে কোনো ভাড়া নেওয়া হবে না। বাসিন্দাদের শুধু গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বস্তি উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে চীন আগ্রহ দেখিয়েছে। বৈঠকে এসব খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বক্তব্য তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ও সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কথাও বৈঠকে উঠে আসে। প্রতিমন্ত্রী জানান, চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সিএমইসি’ এই প্রকল্পে কাজ করছে। ২০২৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ প্রকল্পের চূড়ান্ত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি আগামী ২ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলের বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ‘পাওয়ার চায়না’র সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে ঋণ অথবা অনুদানের মাধ্যমে অর্থায়নের নিশ্চয়তাও চীনের পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গুলশান, বারিধারা ও বনানীকে স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি ভবন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের ছাদে নেট মিটারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনেও চীন বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান মীর শাহে আলম। এর মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বন্দর উন্নয়ন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের উন্নয়নে চীন কাজ করতে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত এ কার্যক্রম শুরু করার পাশাপাশি মোংলা বন্দরের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সংযোগ বাড়ানোর বিষয়েও চীনের সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও আবাসন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)