পটুয়াখালী ইপিজেডে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুত ৬০ প্লট
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:১১ পিএম
সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নির্মাণাধীন পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬০টি শিল্প প্লট প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। শিগগিরই এসব প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে পটুয়াখালী ইপিজেড। পুরো প্রকল্পে ৩০৬টি শিল্প প্লট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বেপজার জনসংযোগ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. আনোয়ার পারভেজ বাসসকে জানান, এরই মধ্যে ৬০টি প্লট বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং দ্রুতই বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো নির্মাণ ও প্লট বরাদ্দের কাজ পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত কারখানা স্থাপন করে উৎপাদনে যেতে পারবেন।
দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরির উদ্দেশ্যে পটুয়াখালী ইপিজেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন করে।
প্রাথমিকভাবে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ও বেপজার মধ্যে জমির দখল ও হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়।
প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, পটুয়াখালী ইপিজেডে প্রায় ১৫৩ কোটি মার্কিন ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আসতে পারে। পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু হলে বছরে প্রায় ১৮৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানির প্রত্যাশা রয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং পরোক্ষভাবে আরও প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ইপিজেডের অবকাঠামো নির্মাণেও অগ্রগতি হয়েছে। ভূমি উন্নয়ন ও ৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খালের উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সড়ক, ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট, অফিস ভবন, আদর্শ কারখানা ভবন, আবাসিক ভবন, সীমানাপ্রাচীর এবং পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইন ও ৩৩/১১ কেভি গ্যাস ইনসুলেটেড সাবস্টেশন নির্মাণের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে।
পুনর্বাসন এলাকায় পরিকল্পিত ১৫৪টি বাড়ির মধ্যে প্রায় ১৩০টির নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, খেলার মাঠ, কবরস্থান ও ফুটপাত নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা চারটি আদর্শ কারখানা ভবন, ১০ তলা তিনটি আবাসিক ভবন ও তিনটি অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া সাবস্টেশন, হেলিপ্যাড, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), পয়োনিষ্কাশন বর্জ্য শোধনাগার (এসটিপি) নেটওয়ার্ক এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে ইপিজেডের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৭০০টি ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে। এরই মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও প্রকল্পটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীনের বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদল পটুয়াখালী ইপিজেড পরিদর্শন করে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আরও একটি চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদলও সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছে বেপজা।
প্রস্তুত শিল্প প্লট, আধুনিক অবকাঠামো এবং বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পটুয়াখালী ইপিজেড দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)