Logo
×

Follow Us

জাতীয়

বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম বর্জনের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম বর্জনের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

ছবি: বাসস

বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে ফ্যাসিবাদকে সমর্থন, প্রচার বা চর্চা করা ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকে সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেছেন, মুক্ত ও নতুন বাংলাদেশের চেতনার সাথে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করে, সামাজিকভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করাই হতে পারে সবচেয়ে বড় জবাব।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে সরকারের ছয় মাসের বিভিন্ন অর্জন নিয়ে তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আন্দালিভ রহমান বলেন, কোনো গণমাধ্যম বা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় ফ্যাসিবাদকে সমর্থন কিংবা উৎসাহ দেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। যারা মুক্ত বাংলাদেশ ও নতুন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না, তাদের সামাজিকভাবে বর্জন করাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস একটি মানসিকতার বিষয়। তার দাবি, গত ১৭ বছরে সমালোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার যে প্রবণতা ছিল, বর্তমান সরকার সে পথে হাঁটছে না। সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বন্ধ বা সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ নেই বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের দুর্নীতি ও দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পর সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের কঠিন সময় মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তাই সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরতে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে জুলাই আন্দোলনসহ অতীতের বিভিন্ন অপরাধের সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে মামলার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট বলে জানান তিনি।

সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যা নিয়ে অনিয়ম বন্ধের উদ্যোগের কথাও জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। তিনি বলেন, কমসংখ্যক পত্রিকা ছাপিয়ে বিপুল সার্কুলেশন দেখানোর যে অসত্য প্রক্রিয়া রয়েছে, তা বন্ধে মন্ত্রণালয় কার্যকর পদক্ষেপ শুরু করেছে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে। সরকারপক্ষে বা বিপক্ষে—জনগণের কথা তুলে ধরাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব এবং গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমে বিরোধী দলগুলোর খবরও আনুপাতিক হারে প্রচারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট ফান্ডের অনুদান বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনুদানের পরিমাণ দ্বিগুণ করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের সহায়তায় ইতোমধ্যে এক কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন