Logo
×

Follow Us

জাতীয়

দেশের সকল সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

দেশের সকল সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধনসহ সরকারের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা সংকট, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলা, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসানের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংস্থাটি সহযোগিতা করতে চায়। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তারও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। একই সাথে ভবিষ্যতে এ সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিবেশ সুরক্ষা, পাহাড়ধস প্রতিরোধ এবং সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পের বিদ্যমান অবকাঠামোর প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা হলেও বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায় না সরকার।

বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতেও ইউএনডিপি কাজ করছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়া নিয়েও আলোচনা হয়। ইউএনডিপির প্রতিনিধি জানান, এসব মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করছে সংস্থাটি। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে সাইবার সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহায়তার আহ্বান জানান।

প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এটি পাস হতে পারে। আইন প্রণয়নের আগে ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন সহযোগী, সম্পাদক ও আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি।

বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যথাযথভাবে তুলে ধরার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অনেক সময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না। বাংলাদেশকে উদার ও ধর্মীয়ভাবে সহনশীল দেশ হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ইউএনডিপি কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন