‘গ্রিন ও স্মার্ট ঢাকা’ গড়তে ডিএসসিসির ১,৯০৪ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম
রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলকে আধুনিক, যানজটমুক্ত, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ৯০৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থা, কাঁচপুর বাস টার্মিনাল উন্নয়ন, ধানমন্ডি লেকের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, নগর উন্নয়নকে শুধু রাস্তা বা ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিক সুবিধা, পরিবেশের ভারসাম্য, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নগরের সৌন্দর্য—সবকিছুকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে দক্ষিণ ঢাকাকে একটি ‘স্মার্ট ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা।
ডিএসসিসির উন্নয়ন বরাদ্দ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৯৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমে ১ হাজার ৭০৭ কোটি ৪১ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৯০৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য চলতি অর্থবছরে ৮০৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত অর্থবছরের মূল বরাদ্দের তুলনায় এ খাতে ৭৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বড় অংশ ব্যয় হবে সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়নে। এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৫২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
যানজট কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দিকেও এগোচ্ছে ডিএসসিসি। ২২টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় এসব সিগন্যাল স্থাপন করা হবে। যানবাহনের চাপ ও চলাচলের ধরন বিশ্লেষণ করে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যানজট কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনায় কাঁচপুর বাস টার্মিনাল উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কার্যক্রম কাঁচপুরে স্থানান্তরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্ল্যাটফর্ম, শেড, টিকিট কাউন্টার ও টয়লেট নির্মাণে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তর করা গেলে রাজধানীর ভেতরে দূরপাল্লার বাসের চাপ কমবে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
নগরের পরিবেশ ও নাগরিক বিনোদনের জন্য ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নেও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। লেকের অবকাঠামো ও পরিবেশগত উন্নয়ন এবং সৌন্দর্যবর্ধনে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য আরও সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি লেকের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সবুজ ঢাকা গড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন খাতে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে ডিএসসিসি। বিভিন্ন সড়কের মিডিয়ান, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে গাছ লাগানোর পাশাপাশি ‘জিরো সয়েল’ কার্যক্রমের আওতায় সবুজায়ন বাড়ানো হচ্ছে।
বৃক্ষরোপণের জন্য নিজস্ব চারা উৎপাদনেও জোর দেওয়া হয়েছে। ওসমানী উদ্যানে ডিএসসিসির তত্ত্বাবধানে স্থায়ী নার্সারি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের প্রায় ১ হাজার ৪০০টি চারা রয়েছে। আগামী বছর এ নার্সারি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নগর ভবনের দক্ষিণ পাশেও আরেকটি নার্সারি স্থাপনের উদ্যোগ চলছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, দক্ষিণ ঢাকার উন্নয়নে সড়ক, ট্রাফিক, পরিবেশ, বিনোদন ও নাগরিক সুবিধাকে সমন্বিতভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, নগরবাসীর জীবনযাত্রা সহজ করা এবং বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাই উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, নগরের উন্নয়নকে টেকসই করতে নাগরিকদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ জরুরি। সড়ক, ফুটপাত, পার্ক, লেক ও সবুজায়নের অবকাঠামো রক্ষায় নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)