Logo
×

Follow Us

জাতীয়

নিত্যপণ্যে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করবে টিসিবি

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৪ এএম

নিত্যপণ্যে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করবে টিসিবি

ছবিঃ বাসস

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি এবার ছোলা ও খেজুরও সংগ্রহ করবে সরকারি এই বিপণন সংস্থা।

টিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় বাজার থেকে এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনা হতে পারে। তবে বিদেশি বাজারে দাম, প্রতিযোগিতা ও সরবরাহের নিশ্চয়তা তুলনামূলক ভালো হলে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাজারের পরিস্থিতি ও পণ্য সংগ্রহের সুবিধা বিবেচনা করেই স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে টিসিবি ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর সংগ্রহ করবে। এসব পণ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রেখে ভোক্তাদের কাছে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

টিসিবি জানিয়েছে, পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি এড়াতে মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামের মজুত এবং পথে থাকা পণ্যের হিসাব নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মজুত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে গুদামের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে টিসিবির ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়ায় নেওয়া। সব মিলিয়ে এসব গুদামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। নিজস্ব গুদামগুলোর ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ার গুদামগুলোর ধারণক্ষমতা ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন।

টিসিবির চেয়ারম্যানের দাবি, সংস্থাটির বর্তমান পণ্য মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক। বিশেষ করে সরকারি সহায়তায় পণ্য পাওয়া ভোক্তাদের জন্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ক্রয় ও মজুত ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগও নিয়েছে টিসিবি। প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সংগ্রহ করে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে ভর্তুকি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে টিসিবির সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।

টিসিবি বর্তমানে বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও পরিবারের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ টিসিবি সরবরাহ করে। সংস্থাটির মতে, এ সরবরাহ বাজারে এসব পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

নিত্যপণ্যের তালিকাও ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছে টিসিবি। ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন মসলা, মরিচ ও হলুদ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পণ্য বাজারদরের তুলনায় কম দামে সরবরাহ করা হবে, তবে এর জন্য সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ফয়সল আজাদ।

এদিকে টিসিবির স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থায় বর্তমানে প্রায় **৮০ লাখ কার্ড অনুমোদিত** হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। মৃত্যু, স্থানান্তর বা অন্যান্য কারণে সুবিধাভোগীর তালিকায় প্রয়োজন অনুযায়ী নাম সংযোজন, বাদ বা সংশোধন করা হবে।

টিসিবির সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও ডিজিটাল করার উদ্যোগও চলছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোনে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করে পণ্য বিক্রি করছেন। শিগগির বিক্রয়কেন্দ্রে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভোক্তারা লেনদেনের রসিদও পাবেন।

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য মোবাইলভিত্তিক নতুন ব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ডিজিটালভাবে স্মার্ট কার্ডের তথ্য দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা বা নগদের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাবেন।

নিজস্ব গুদাম সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান। সংস্থাটি প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মজুত সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ভাড়ার গুদামের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বড় পরিসরে পণ্য সংগ্রহ ও বাজারে সরবরাহ করা সহজ হবে।

ফয়সল আজাদ বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারে টিসিবির হস্তক্ষেপ বাড়াতে হলে ক্রয় ও সরবরাহের পাশাপাশি লজিস্টিক সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। ভবিষ্যতে ভোক্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন কোনো পণ্য বাজারে আনার আগে ভোক্তাদের চাহিদা যাচাই করা হবে। মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত পণ্য পৌঁছে দেওয়াই টিসিবির প্রধান লক্ষ্য। পণ্যের তালিকায় নতুন কিছু যুক্ত হলেও তা কেনা ভোক্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক হবে না এবং পণ্যের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

মন্তব্য করুন