Logo
×

Follow Us

জাতীয়

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগের  আহ্বান

ছবিঃ বাসস

 

বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে আরও মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার অবকাঠামো, পানি ও পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাবে বাংলাদেশ।

সোমবার সচিবালয়ে নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল সরকারের বর্তমান নীতি, দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাসে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতি।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দুই দেশের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

মীর শাহে আলম জানান, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ এলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিক সেবার মানও উন্নত হবে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার অবকাঠামো, পানি ও পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে। এ সময় তিনি বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠকে সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচিও আলোচনায় আসে। স্কুলশিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ব্যাগ বিতরণ এবং স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের প্রশংসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ঝরে পড়ার হার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা আরও কার্যকর করার বিষয়েও সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের সব এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা সম্পর্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আগামী ছয় মাসে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় নগর ও গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দ্রুত নগরায়নের কারণে বাড়তে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়েও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পানি ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

মন্তব্য করুন