২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
ছবিঃ বাসস
২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সড়ক দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা দিতে অ্যাম্বুলেন্স প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। ২০২৪ সালেও পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন সড়কে মানুষের প্রাণহানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দুর্ঘটনা কমাতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত গতি, হেলমেট ব্যবহারে অনীহা ও জনসচেতনতার ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এসব সমস্যা মোকাবিলায় চালকদের প্রশিক্ষণ ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো একক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন হাইওয়ে পুলিশ আইন প্রয়োগ করে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেয়। তাই সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
পথচারীদের সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, মহাসড়কের পাশে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অনেকে ওভারপাস ব্যবহার না করে রাস্তা পার হন। দুর্ঘটনা কমাতে এ ধরনের অভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, একটি সমন্বিত নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এটি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বাস ও ট্রাকের আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করে পুরোনো যানবাহন স্ক্র্যাপ ও পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
সড়ক অবকাঠামোর নিরাপত্তা বাড়াতে মার্কিং ও নিরাপদ সংযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি চালক, পথচারী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠানে অ্যাম্বুলেন্স ও বাইক অ্যাম্বুলেন্স প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। মন্ত্রী বলেন, দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছে আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাইক অ্যাম্বুলেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। জনবল সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে পুলিশের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা ও সরকারি অর্থায়নে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এসব প্রকল্পের সফলতা নির্ধারণ হবে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কতটা কমানো সম্ভব হয়েছে, তার ভিত্তিতে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতেই হবে। এ জন্য সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষসহ সব অংশীজনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)