Logo
×

Follow Us

জাতীয়

জনগণের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: রিজভী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

জনগণের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: রিজভী

ছবিঃ সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করলেই একটি সরকার সফলতা অর্জন করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজভী এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নবনিযুক্ত রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী বলেন, নানা সংকটের মধ্যেও সরকার সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচনের আগে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে এবং এর সুফল দৃশ্যমান হচ্ছে।

সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, এর জন্য সরকার বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি দায়ী নয়। যুদ্ধের প্রভাবে তৈরি বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি মহেশখালীর গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহকারী টার্মিনালে ত্রুটির কারণে কয়েক দিন গ্যাসের চাপ কমে যায়। এতে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও রান্নার ক্ষেত্রে ভোগান্তি তৈরি হয়।

তিনি জানান, মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের ত্রুটি ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে এবং এলএনজির কার্গোও দেশে পৌঁছেছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় চাপ বেড়েছে এবং লোডশেডিংও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

রিজভী বলেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত মোকাবিলায় সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল না। সংকটের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, সরকার সেসব শনাক্ত করে প্রতিহত করেছে। পাশাপাশি জনকল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

সরকারের জবাবদিহিতার বিষয়ে রিজভী বলেন, সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। সংসদ, দলের নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যম—সব ক্ষেত্রেই সরকারের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতার সুযোগ থাকবে। ইতোমধ্যে সরকার এ বিষয়ে কয়েকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান সরকারকে জনকল্যাণমুখী দাবি করে তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্তভাবে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। অতীতে মেগা প্রকল্পের নামে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করে রিজভী দাবি করেন, বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে বাস্তব উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে নিজের সাংগঠনিক অগ্রাধিকার সম্পর্কে রিজভী বলেন, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করাই তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক দুর্বলতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে তা দূর করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাংগঠনিক নির্দেশনা তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নে কাজ করা হবে। এ কাজে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি প্রসঙ্গে রিজভী জানান, যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোতে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে এসব কমিটির সম্মেলন আয়োজন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো নেতা পদ থেকে সরে গেলেও তাকে সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখা হবে না। বরং যোগ্যতা ও সাংগঠনিক ভূমিকার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বিএনপি বা এর সহযোগী সংগঠনের অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ ও দায়িত্বে তাকে যুক্ত করার সুযোগ থাকবে।

মন্তব্য করুন