Logo
×

Follow Us

জাতীয়

স্বাস্থ্য খাতে ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা দুই-এক মাসে দূর করা সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

স্বাস্থ্য খাতে ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা দুই-এক মাসে দূর করা সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে স্বাস্থ্যসেবায় যে অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে, তা দুই-এক মাসে দূর করা সম্ভব নয়।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে মৃত কনিকা মণ্ডলের স্বামী অশান্ত মণ্ডলের বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ফরিদপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর একজন প্রসূতির পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের প্রায় ৫১ দিন পর তার মৃত্যু হয়। এমন ঘটনায় সরকার ব্যথিত। বিষয়টি জানার পর আমি ঢাকা থেকে রাজবাড়ীতে ছুটে এসেছি। 

কনিকা রানী মন্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়েমন্ত্রী বলেন, রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও হাসপাতাল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে এ ধরনের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এখন এগুলো স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের জন্য ৫০ শয্যা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এসব সেন্টারের কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. সামসুল হক, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন অসুস্থ হয়ে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী এলাকার সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন কনিকা রানী মন্ডল। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয় এবং তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। অপারেশনের পরদিন কনিকার পেট ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলেও যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে তাকে রাজধানীর কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার পেটে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৯ আগস্ট বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কনিকা রানী মন্ডল মারা যান।

মন্তব্য করুন