ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না: ত্রাণমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক মতভেদ বরদাস্ত করা হবে না। দুর্গত মানুষের সহায়তায় কোনো রাজনীতি নেই। ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের কোনো অভিযোগ পেলে, সাথে সাথে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রামের বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়নে বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রী খানখানাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বঢোমরা জলকদর খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ সিলেট ও হবিগঞ্জের কয়েকটি জেলায় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত ৪৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুর্গত মানুষের জরুরি সহায়তার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণে বরাদ্দের অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলা রয়েছে- কোনোরকম দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিকে আমরা বরদাস্ত করব না। বিশেষ করে বন্যা প্লাবিত মানুষের ক্ষেত্রে কোনো রাজনীতি নাই। যারাই দুর্গত, তাদেরকে ত্রাণ দিতে হবে। আর এ ধরনের কোনো অভিযোগ যদি আসে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো আমরা।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, একটা প্রতিশ্রুতি ছিল যে আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের সমস্ত খালগুলোকে পুনঃখনন করবো। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল কেটে যে বিপ্লব করেছিলেন, তখন খাদ্যে আমাদের ঘাটতি ছিল। এই খাল কাটার মাধ্যমে খাদ্যে উদ্বৃত্ত হয়েছিল। সেই খাদ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘসময় খাল খনন না হওয়ায়, পানি প্রবাহটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আজকে আমি স্বচক্ষে সরেজমিনে দেখলাম যে এই জলকদর খাল কাটার ফলে অনেকখানি পানি নিষ্কাশন হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্যটা হচ্ছে- বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন যেমন হবে, শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রাখব আমরা। খালের পাড়ে আমরা গাছ লাগাব। খালের বাকি অংশটার কাজ যাতে সামনের শুকনো মৌসুমে সম্পন্ন হয় সেজন্য আমার মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দিব। খালটাকে আরও সুন্দর করার জন্য আমি নির্দেশনা দিয়ে গেলাম।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ৫০টি জেলায় একটি করে মডেল খাল চিহ্নিত করা হবে। বাঁশখালীর এই জলকদরের খালটিকেও সেই মডেল খালের অন্তর্ভুক্ত করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
খাল পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণের সময় মন্ত্রীর সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার লোকমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)