সাগর-রুনি হত্যা: জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচী জড়িত টাস্কফোর্সকে জানিয়েছে প্রসিকিউশন
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সাবেক বরখাস্ত সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য উচ্চপর্যায়ের তদন্ত টাস্কফোর্সকে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আদালতের পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স। তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দেয়ার পাশাপাশি আরো সময় চেয়েছে তদন্ত দলটি। মঙ্গলবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও আগের দিনই সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়। বিষয়টি বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আদেশের জন্য রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সাথে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করে।
নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দেয়া সম্ভব না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। ৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় সেদিন এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২২ এপ্রিল, ২৩ অক্টোবর এবং চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল আরও সময় দেওয়া হয়। প্রতিবারই তদন্ত শেষ করতে ছয় মাস করে সময় বাড়ানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় মামলাটি আবারও হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। পরদিন সকালে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল নিয়ে নতুন করে সময় চাওয়ায় বিচারপ্রত্যাশীদের অপেক্ষা আরো দীর্ঘ হচ্ছে।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত সতর্কতা: জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রসিকিউশনের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে; এটিকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়নি।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)