টোল অনিয়মের মামলায় হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১০ ডিসেম্বর
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
শেখ হাসিনা
মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের ও আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিকসহ সরকারি কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা রয়েছেন। এছাড়া সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবালও মামলার আসামি।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে আগের দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিল করে একক উৎসভিত্তিক পদ্ধতিতে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) লিমিটেডকে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চুক্তিতে নির্দিষ্ট অর্থের পরিবর্তে আদায় করা মোট টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, ওই চুক্তির আওতায় সিএনএস লিমিটেড প্রায় ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বিল গ্রহণ করে। অথচ ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একই সেতুর টোল ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে ২০২২ থেকে ২০২৫ মেয়াদে একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সাথে তিন বছরের চুক্তি হয় প্রায় ৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকায়।
এই তুলনামূলক হিসাবের ভিত্তিতে দুদকের অভিযোগ, সিএনএসকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ায় সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগোবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)