Logo
×

Follow Us

আইন-আদালত

কাদেরসহ ৭ নেতার মামলার রায় আজ

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ এএম

কাদেরসহ ৭ নেতার মামলার রায় আজ

কাদেরসহ ৭ নেতার মামলার রায় আজ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত পলাতক নেতার মামলার রায় আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শুনানি শেষে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করবেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর ১৭ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে সেদিনই তা আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি ও স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ৪ আগস্ট থেকে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক শেষ হয় ১৭ আগস্ট। মামলায় মোট ১২৩ সিরিজের নথি-দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে নামানোর আহ্বান, বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা, সশস্ত্র হামলা ও দমন-পীড়নের পাশাপাশি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে তাদের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে। এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের মধ্য দিয়ে সাত আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হতে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন