Logo
×

Follow Us

আইন-আদালত

সাবেক আইজিপি বেনজীরের দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য আজ

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬ এএম

সাবেক আইজিপি বেনজীরের দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য আজ

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত থাকলেও সেদিন কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। পরে আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।

মামলাটিতে মোট ২৮ জন সাক্ষী রয়েছেন। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই বস্ত্র অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কারিগরি) মো. ফয়সাল কবির আদালতে সাক্ষ্য দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের অভিযোগপত্রে তাঁর ঘোষিত সম্পদ ও তদন্তে পাওয়া সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সম্পদ বিবরণীতে বেনজীর আহমেদ ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছিলেন। তবে তদন্তে তাঁর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

তদন্তে বেনজীর আহমেদের বৈধ আয় ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা এবং নিট সঞ্চয় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হিসাবের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সম্পদের অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপন রাখতে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনী কারবারে অর্থ বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।

২০২৪ সালে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি অনুসন্ধানে নামে দুদক। অনুসন্ধান ও তদন্তের পর ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে তা আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ৩ মে তাঁর অনুপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

বর্তমানে মামলাটির ২৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আজকের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন