Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

বাইন্যান্সে বৃহৎ সাইবার হামলা, চুরি ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

বাইন্যান্সে বৃহৎ সাইবার হামলা, চুরি ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো

ছবিঃ বিবিসি

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সে ভয়াবহ সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তদন্তকারীদের ধারণা, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী এ ঘটনার পেছনে রয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স জানায়, অত্যন্ত পরিকল্পিত ও জটিল পদ্ধতিতে সাইবার হামলাটি চালানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের সন্ধান এবং উদ্ধারে বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে কাজ চলছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের ধারণা, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এ হামলার সাথে জড়িত। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির ঘটনাতেও গোষ্ঠীটিকে দায়ী করা হয়েছিল। ক্রিপ্টো সংবাদমাধ্যম কয়েনডেস্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরেক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এলিপটিকও এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সন্দেহ করছে।

ধারণা করা হয়, ট্রেডারট্রেইটর গোষ্ঠীটি উত্তর কোরিয়ার আলোচিত ‘লাজারাস গ্রুপ’-এর সাথে সম্পৃক্ত। ২০১৪ সালে সনি পিকচার্সে সাইবার হামলার অভিযোগ ওঠার পর গোষ্ঠীটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ব্যঙ্গ করে নির্মিত ‘দ্য ইন্টারভিউ’ চলচ্চিত্রের প্রতিক্রিয়ায় ওই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটির একজন ডেভঅপস প্রকৌশলীর ব্যবহৃত ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে হামলাকারীরা অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ পায়। এরপর অননুমোদিত লেনদেনের মাধ্যমে ডিজিটাল সম্পদ সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিজিটাল ওয়ালেটের কোনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চাবি বা প্রাইভেট কি ফাঁস হওয়ার প্রমাণ মেলেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া বিবৃতিতে বাইন্যান্স জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির লাতিন আমেরিকাভিত্তিক এক্স অ্যাকাউন্টে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৬৩০ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়। একই সাথে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। তবে তদন্তের অগ্রগতির সাথে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। এফবিআইও জানিয়েছে, হামলার প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি নির্ধারণে সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সাথে কাজ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তদন্তে সহায়তা দেবে সংস্থাটি।

এদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইউএসডিটি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান টেথারের প্রধান পাওলো আরদোইনো জানিয়েছেন, বাইন্যান্সে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে তাদের প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে, সার্কেলের প্রধান জেরেমি আলেয়ার জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান ৮০ কোটি ডলারের বেশি ইউএসডিসি জব্দ করেছে। ইউএসডিটি ও ইউএসডিসি হলো স্টেবলকয়েন, যেগুলোর মূল্য মার্কিন ডলারের সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে যুক্ত থাকে।

সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। স্টেবলকয়েন বাদে অধিকাংশ বড় ডিজিটাল মুদ্রার দাম কমে যায়। বিটকয়েনের মূল্য প্রায় ৫ শতাংশ পড়ে একপর্যায়ে ৭৬ হাজার ৪০০ ডলারে নেমে আসে, যা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন। পরে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়ে এর দাম প্রায় ৭৭ হাজার ৩০০ ডলারে ওঠে।

এ ছাড়া ইথেরিয়ামের দাম প্রায় ৬ শতাংশ এবং বাইন্যান্সের নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রা বিএনবির মূল্য প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়। বাইন্যান্স জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে হামলার কৌশল ও নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে বিস্তারিত কারিগরি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের সম্পদ নিরাপদ রাখার পাশাপাশি হামলায় সৃষ্ট ক্ষতি পূরণের আশ্বাসও দিয়েছে।

মন্তব্য করুন