মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে তুরস্কে আট দেশের বৈঠক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিস্তার রোধ, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা প্রশমন এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠক করেছেন আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সামরিক উত্তেজনা এড়িয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
বৈঠকে অংশ নেয় তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিসর, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এ ধরনের যৌথ বৈঠক এবারই প্রথম। আলোচনায় ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে উত্তেজনা, ইয়েমেন পরিস্থিতি, সৌদি আরবে হুতি গোষ্ঠীর হামলা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয় উঠে আসে।
বৈঠক শেষে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হলে পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে। সামরিক হস্তক্ষেপকে সমাধান হিসেবে দেখছেন না অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। তার মতে, চলমান সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়লে কোনো পক্ষই লাভবান হবে না। এর প্রভাবে জ্বালানি তেলের দামসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বিশ্ববাজারে পরিবহন ব্যয় ও পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সাথে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সৌদি আরবে হুতি গোষ্ঠীর হামলা বন্ধ এবং ইয়েমেনের সংঘাত প্রশমনের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি গাজা পরিস্থিতি ও ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
বৈঠক শেষে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সব সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান হয়েছে—এমন কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর এখন আঞ্চলিক পরিস্থিতির অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)