মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বাড়ল তেলের দাম, ব্যারেল ১১২ ডলার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথে হামলার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা ও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলার ৬ সেন্ট বা ২ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলার ৮৮ সেন্টে দাঁড়ায়। দিনের লেনদেনে একপর্যায়ে এ দাম ১১২ ডলার ৫৫ সেন্টে পৌঁছায়, যা গত ১৮ মে-এর পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ২ ডলার ৪ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ১৯ সেন্টে ওঠে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ও সমুদ্রপথে হামলার ঘটনায় তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
তেলবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান পিভিএমের বিশ্লেষক তামাস ভার্গার মতে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হুথিদের হামলা বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। তার ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনা কম থাকলে তেলের দাম উচ্চপর্যায়ে থাকতে পারে।
এদিকে সৌদি আরবে হামলার পর রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো ধাহরানে অবস্থিত সদর দপ্তরের কর্মীদের দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। একই সাথে সৌদি আরবে কয়েকটি মার্কিন কূটনৈতিক মিশন থেকে কিছু কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
বুধবার সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। এসব হামলার মধ্যে দাম্মামের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। দেশটির একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় আরো দুজন নিহত হন।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী দাবি করেছে, উত্তর উপসাগরে তেল স্থানান্তরের কাজে যুক্ত চারটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এতে জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে আরও তিনটি জাহাজ মাইনের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি। এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে লিবিয়াতেও তেল উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটেছে। দেশটির জাতীয় তেল করপোরেশনের প্রধান জানিয়েছেন, হামাদা ও তাহারা তেলক্ষেত্র থেকে জাওইয়া বন্দরে তেল পরিবহনের একটি পাইপলাইনের ভালভ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে।
এদিকে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দেশটির জরুরি হিটিং অয়েল মজুতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঋণ হিসেবে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, তেল ও গ্যাস আমদানিতে মিথেন নিঃসরণসংক্রান্ত বিধি কার্যকরের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। বুধবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সাথে বৈঠক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের দাবি, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের সাথে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছেন পুতিন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও দ্রুত আলোচনা শুরুর আশাবাদ জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। এর প্রভাব বিভিন্ন দেশের জ্বালানি ব্যয় ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)