Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

নির্বাচনের পর ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

নির্বাচনের পর ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের

প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশ পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। তবে সম্ভাব্য হামলার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা ও পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দুই দেশের সামরিক বাহিনী মহড়া জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের পশ্চিমে অবস্থিত প্রতিবেশী দেশ ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিমান পরিচালনা এবং হামলার কৌশল অনুশীলন করা হচ্ছে। তবে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হওয়ার অর্থ এই নয় যে, ইরানে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানো হলে ইরানের অর্থনীতি আরও সংকটের মুখে পড়তে পারে। এর ফলে তেহরানকে কূটনৈতিক আলোচনায় ছাড় দিতে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অক্টোবরের মধ্যেই হামলা চালানোর সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি। যদিও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনাকে তুলনামূলক কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে দুই দেশ

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। ইরাকের আকাশসীমায় বিমান পরিচালনার অনুশীলনের পাশাপাশি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ নিয়েও পরিকল্পনা চলছে। জ্বালানি ও পারমাণবিক স্থাপনার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের মজুতকে লক্ষ্য করার বিষয়টি ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হলে ইরানের অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। এর মাধ্যমে দেশটিকে আলোচনার টেবিলে আরও নমনীয় অবস্থান নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হতে পারে। তবে সম্ভাব্য হামলার পরিণতি এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলার পরিকল্পনা কেন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। একই সাথে ইরানের সাথে আলোচনা চলার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

এমন ঘোষণার পর নির্বাচনের পর সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেয়ার খবর ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে নির্বাচনের পরই হামলা হবে, এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ চলতি সপ্তাহে ইসরাইল সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠক করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে ইরানে সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছিল। তবে ওই বৈঠকেই সামরিক অভিযানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।

মন্তব্য করুন