ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বাতিল হল ৩ লাখের বেশি ভিসা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে তার প্রশাসন। অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ জোরদার এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট ভিসা বাতিলের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় দ্রুতগতিতে ভিসা বাতিল করছে বর্তমান সরকার। আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেন—এমন বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বেড়ে তিন লাখ ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা জোরদার করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তবে ভিসা বাতিল ও অভিবাসীদের নির্বাসনের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এসব পদক্ষেপে ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার ও বাক্স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘু অভিবাসীদের ক্ষেত্রে বৈষম্যের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেয়া এবং রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার কারণে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিলের ঘটনায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিকারকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ছাড়া মিনেসোটার সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের কিছু জালিয়াতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, অভিবাসী ও ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ এবং যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আরো কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ওপর নজরদারি বাড়ছে।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সমালোচকদের মতে, তার প্রশাসনের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে বৈধ অভিবাসনের পথও কঠিন হয়ে উঠছে। নির্দিষ্ট কিছু কর্মভিসার ওপর অতিরিক্ত ফি আরোপের বিষয়টিকেও এর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)