ফ্রান্সে দাঙ্গা-লুটপাট, বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রীয় অংশসহ বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে সরকার। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সহিংসতায় আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য। ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জনসেবার মানের অবনতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলনে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। পরে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। বিভিন্ন শহরে গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ ও লিলসহ বিভিন্ন শহরে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে। তবে সহিংসতার জন্য দায়ীদের কাছ থেকেও ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে দাঙ্গায় দেশটির দুই হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছাতে পারে।
সহিংসতা মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছেন, কয়েকটি শহরে পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। এ ঘটনায় তিনি পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো তা গ্রহণ করেননি।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)