কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯, আটক ১২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ এএম
সংগৃহীত ছবি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও এক শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ২৫ জন। তাঁদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার পর পূজার আয়োজক কমিটির কয়েকজনসহ ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানা এলাকার সারদা পার্কের চোরবাগান দুর্গাপূজার মণ্ডপে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী মণ্ডপে জড়ো হওয়ায় ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে মণ্ডপের বের হওয়ার পথে পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্য ও চিকিৎসাকর্মীরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়। দুর্ঘটনার পর মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল হাসপাতালে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এক ভিডিও বার্তায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মণ্ডপে ভিড় যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল কি না, তা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা হবে। আয়োজক কমিটি, পুলিশ, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী কিংবা অন্য কারও অবহেলা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
কলকাতার বড় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা এবং পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরিতে গ্রুপ ডি পদে নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সরু হওয়াকে পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএনআইকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পদদলিত হওয়ার সময় অনেক মানুষ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ছিল সংকীর্ণ এবং ওই এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল না। দুর্ঘটনায় তাঁর মেয়ে ও নাতনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ঘটনার পর দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেন পূজার আয়োজকেরা। একই সাথে মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেয়া হয়। আয়োজক বিকাশ দাস বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে বলেন, কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ মুহূর্তে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য উদ্ধারকাজ পরিচালনা এবং আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে পাঠানো। ঘটনাস্থলে পুলিশ, রাজ্য ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন।
তবে পদদলিত হওয়ার কারণেই সব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আয়োজক বিকাশ দাস। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)