হরমুজ প্রণালীতে মাইনের আঘাতে সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালীতে সমুদ্রের তলদেশে পাতা মাইনের আঘাতে দুই মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেলবাহী একটি সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। তাদের ভাষ্য, অনুমোদনহীন একটি নৌপথ ব্যবহার করে প্রণালীটি অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় জাহাজটি মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজটিতে আঘাতের পর শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে জাহাজটির নাম, হতাহতের সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
আইআরজিসির নৌবাহিনীর অভিযোগ, তেলবাহী ট্যাংকারটি চলাচলের সময় নিজেদের ট্র্যাকিং ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে প্রতারণামূলকভাবে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল জাহাজটি।
এ ঘটনায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, প্রণালীটি বন্ধ রয়েছে। ইরানের নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে যেসব জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করবে, তাদের গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
এদিকে ইরান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। আইআরজিসির সরবরাহ করা ওই ফুটেজে একটি সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও আগুনের দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে ভিডিওটির মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ বা জাহাজটির পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) তাদের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত সাপ্তাহিক পর্যালোচনায় সাম্প্রতিক সময়ে সামুদ্রিক জাহাজে ১২টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ১০টি হরমুজ প্রণালীতে, একটি পারস্য উপসাগরে এবং অন্যটি ওমান উপসাগরে ঘটেছে।
ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে ছয়টি যাত্রা অব্যাহত রাখতে পেরেছে অথবা বন্দরে পৌঁছেছে। একটি জাহাজ সমুদ্রে ডুবে গেছে এবং দুটি জাহাজ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বাকি তিনটি ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি ও পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, সামুদ্রিক জাহাজে হামলার প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আক্রান্ত অনেক জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার তথ্য জানাচ্ছে না। অন্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যও সব ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
ইউকেএমটিওর পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ কম। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সংস্থাটি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে সুপারট্যাংকারে মাইনের আঘাতের বিষয়ে ইরানের দাবি এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)