Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনায় ইরান, মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-কাতার

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনায় ইরান, মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-কাতার

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে ইরান। ওয়াশিংটনের পাঠানো প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে তেহরান। এদিকে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে আলোচনা শুরুর আগে ইরানের নির্ধারিত পূর্বশর্তগুলো মেনে নিতে হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান ও কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাকাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া আলোচনার প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে তেহরান। তবে যেকোনো আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের পূর্বশর্তগুলো অবশ্যই মানতে হবে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে রাশিয়ার ভূমিকার বিষয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি জানান, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে মস্কোর সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় ইরানের পরমাণু ইস্যুতে রাশিয়া এখনো গঠনমূলক ভূমিকা রাখছে। তার মতে, ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সহযোগিতামূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানায় তেহরান।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মধ্যস্থতার মূল দায়িত্ব পাকিস্তান ও কাতারই পালন করছে বলে উল্লেখ করেন বাকাই। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার কার্যক্রম কারিগরি ও সুনির্দিষ্ট পর্যায়ে এই দুই দেশের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালীতে চলমান উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলাকে দায়ী করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রণালীতে যেসব ঘটনা ঘটছে, তা ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পরিণতি। আলোচনায় দর-কষাকষির অবস্থান শক্তিশালী করতে ইরান হরমুজ প্রণালীকে ব্যবহার করছে—এমন ধারণাও নাকচ করেন বাকাই।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মনোভাব ও কর্মকৌশল অব্যাহত থাকলে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। একই সাথে ইরান তার কৌশলগত সুবিধা ও দর-কষাকষির সক্ষমতা হারিয়েছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। বাকাইয়ের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র এমন দাবি করলেও তেহরান নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ওয়াশিংটনের দাবির বিপরীতে জ্বালানি বাজারেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরব উপদ্বীপের চলমান উত্তেজনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগে সহায়তা করতেও তেহরান প্রস্তুত বলে জানান তিনি। বাকাই বলেন, দুটি ইসলামি দেশের মধ্যে যুদ্ধ ও বৈরিতা চলতে থাকুক, তা ইরান চায় না।

তিনি আরো জানান, আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের আলোচনা চলছে। সংলাপের পরিবেশ তৈরি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ সুগম করতে তেহরান বারবার সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা ও পাকিস্তান-কাতারের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও আলোচনার অগ্রগতি নির্ভর করছে ইরানের পূর্বশর্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থানের ওপর। আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছে তেহরান।

মন্তব্য করুন