Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

আট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া স্থগিত ট্রাম্পের

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

আট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া স্থগিত ট্রাম্পের

সংগৃহীত ছবি

মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিসহ আটটি বড় প্রযুক্তি ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড-সংশ্লিষ্ট আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার যুক্তিতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), ইনফোসিস, উইপ্রো, কগনিজ্যান্ট, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনপ্রক্রিয়া নতুন করে বাধার মুখে পড়তে পারে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং স্থায়ী বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন ট্রাম্প। নতুন এই সিদ্ধান্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের অভিবাসন ব্যবস্থায় আরো কঠোরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। মাইক্রোসফটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ৬ হাজার ৩০০টি এইচ-১বি অস্থায়ী কর্মী ভিসা এবং প্রায় ৩ হাজার গ্রিন কার্ড-সংশ্লিষ্ট সুবিধা পেয়েছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৬ হাজার মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলাসহ কয়েকজন শীর্ষ প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবদানের স্বীকৃতি দেন। নাদেলা একসময় এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। সম্মাননা পাওয়া ইলন মাস্কও একসময় এই ভিসার আওতায় দেশটিতে অবস্থান করেছেন। পুরস্কার গ্রহণের পর নাদেলা ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধিতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

মার্কিন শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী শ্রম সনদ বা পিইআরএম (PERM) প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাইক্রোসফট শীর্ষে। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে সাধারণত এ সনদ প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হয়, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তাদের এইচ-১বি ভিসার আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল বর্তমান কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো কিংবা অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তনের জন্য। নতুন কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে এসব আবেদন করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে জানিয়েছিল, তারা ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাই করবে, যা বিশ্বব্যাপী তাদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ।

মার্কিন শ্রম বিভাগের কর্মকর্তা কিথ সন্ডারলিং জানিয়েছেন, স্থগিতাদেশের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন স্থায়ী শ্রম সনদ আবেদনের বিষয়টি গ্রহণ করা হবে না। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে এসব কোম্পানি প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করেছে। এ সময়ে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন এবং ১ লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সনদ পেয়েছে তারা।

ভ্যান্স জানিয়েছেন, প্রয়োজন থাকা পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। প্রশাসনের প্রত্যাশা, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনবে। তার অভিযোগ, কিছু কোম্পানি এমন চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়, যেগুলো কার্যকর নয়; পরে যোগ্য আবেদনকারী না পাওয়ার কথা বলে কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে।

অন্যদিকে, মাইক্রোসফটের দাবি, এইচ-১বি ভিসায় নিয়োজিত কর্মীদের একই ধরনের কাজ করা অন্য কর্মীদের সমপর্যায়ের বেতন দেয়া হয়। অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, এইচসিএল টেকনোলজিস, উইপ্রো ও ক্যাপজেমিনি তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন ন্যাসকম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। পাশাপাশি তাদের কর্মীদের তুলনামূলক কমসংখ্যকই পিইআরএম প্রক্রিয়ায় গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছেন।

মন্তব্য করুন