Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

হিজবুল্লাহকে ইরানের ২০ কোটি ডলার সহায়তা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

হিজবুল্লাহকে ইরানের ২০ কোটি ডলার সহায়তা

সংগৃহীত ছবি

ইসরাইলি সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত লেবাননের নাগরিকদের সহায়তার জন্য হিজবুল্লাহকে ২০ কোটি মার্কিন ডলার দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর আর্থিক নজরদারির মধ্যেই গত মাসে এই অর্থ লেবাননে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বুধবার (৭ অক্টোবর) অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে রয়টার্স। সূত্রগুলোর দাবি, ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হিজবুল্লাহ-সমর্থিত পরিবারগুলোর জন্য ইরানের এটি অন্যতম বড় সরাসরি আর্থিক সহায়তা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান থেকে হিজবুল্লাহর কাছে অর্থ পাঠানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সেই ঝুঁকি এড়িয়ে অর্থটি লেবাননে পৌঁছানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ স্থানান্তরের সাথে যুক্ত মধ্যস্থতাকারীরা ঝুঁকির কারণে অস্বাভাবিক উচ্চ হারে কমিশন নিয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের পরিমাণ মোট অর্থের প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে, যা স্বাভাবিক আন্তর্জাতিক লেনদেনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।

হিজবুল্লাহর একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধিও ইরান থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তিনি অর্থের উৎস, স্থানান্তরের পদ্ধতি বা কোন কোন মাধ্যমে অর্থ লেবাননে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাওয়া অর্থের বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মধ্যে নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ হাজার পরিবারকে পরিবারপ্রতি ৩ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসরাইলি অভিযানে যেসব পরিবারের বাড়িঘর বা পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এ ছাড়া যেসব এলাকা এখনো সামরিক উপস্থিতির কারণে বসবাসের অনুপযোগী, সেসব এলাকার বাসিন্দারাও এই সহায়তার আওতায় আসবেন বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে অর্থ কীভাবে লেবাননে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানের এই আর্থিক সহায়তা নিয়ে লেবাননে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও হিজবুল্লাহর আর্থিক সক্ষমতা ধরে রাখতে তেহরানের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে হিজবুল্লাহ তার সামাজিক ও সাংগঠনিক প্রভাবও ধরে রাখার সুযোগ পেতে পারে।

হিজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, নিহত যোদ্ধাদের স্বজন এবং সংগঠনের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থ স্থানান্তরে বাড়তি নজরদারি থাকলেও গোষ্ঠীটির আর্থিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইরানের নতুন অর্থায়ন সেই সক্ষমতা আরো বাড়াতে পারে।

তবে ২০ কোটি ডলারের এই সহায়তার বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন