Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

মালয়েশিয়া থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ফিরেছেন প্রায় দেড় হাজার অভিবাসী

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

মালয়েশিয়া থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ফিরেছেন প্রায় দেড় হাজার অভিবাসী

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়া থেকে প্রায় দেড় হাজার মিয়ানমারের অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) তিনটি নৌযানে করে ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারে পৌঁছান। দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যেই এই প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল।

স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার আগেই মিয়ানমারের নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ থানলিনের একটি নৌঘাঁটিতে পৌঁছে যায়। সেখানে স্বজনদের নিতে শত শত মানুষ অপেক্ষা করছিলেন।

৫৫ বছর বয়সি কিয়াও মিন্ট জানান, মালয়েশিয়ায় প্রায় দেড় বছর আটক থাকা তার তিন নাতিকে নিতে তিনি নৌঘাঁটির বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। ছয় বছর ধরে তাদের সঙ্গে তার দেখা হয়নি। কারাগারে যাওয়ার পর থেকে নাতিদের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ ছিল বলে জানান তিনি।

তবে দেশে ফেরার পর তাদের জোর করে সামরিক বাহিনী কিংবা জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন কিয়াও মিন্ট।

মিয়ানমার সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া থেকে তিনটি নৌযানে করে ১ হাজার ৪৭৬ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার অভিবাসীকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার এটি প্রথম ধাপ। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম চলছে।

তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। আন্তর্জাতিক আইনে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের যে শর্ত রয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পূরণ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে ২৭ শিশু ও ৭৯ নারী রয়েছেন। বাকি ১ হাজার ৩৭০ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। তাদের মধ্যে নিপীড়িত রোহিঙ্গারা রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বড় অংশই রোহিঙ্গা।

মালয়েশিয়ার দাবি, আটককেন্দ্রে থাকা সব প্রত্যাবাসনকারী স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মতি দিয়েছেন। অন্যদিকে মিয়ানমার সরকার বলছে, তাদের অনেকেই অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধে সাজা শেষ করেছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব আটককেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করে তারা স্বাধীনভাবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

মালয়েশিয়া আরও ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি মিয়ানমারের অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব অভিবাসী দেশের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছেন এবং সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকট বাড়াচ্ছেন।

এদিকে মিয়ানমারে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের একটি বাজারে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় প্রায় ৫০ জন নিহত হন। একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থার হিসাবে, দেশটির চলমান গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক মালয়েশিয়া থেকে এই প্রত্যাবাসনের সমালোচনা করে বলেছেন, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনে জর্জরিত একটি দেশে জোরপূর্বক কাউকে ফেরত পাঠানোর সময় এখন নয়।

মন্তব্য করুন