বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইরানি সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ইরানকে দায়ী করে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার ক্ষেত্র তৈরি করতে বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনা থেকে জনমত সরিয়ে নেয়া এবং ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর অবস্থান শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে কথিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযান সাজানো হয়ে থাকতে পারে। এমন ঘটনার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা ছিল বলেও দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
বিমানটির ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা ছড়িয়েছে। কিছু ব্যবহারকারী ঘটনাটিকে সাজানো বলে দাবি করে বলেছেন, এর মাধ্যমে ইসরাইলের নির্বাচনকে প্রভাবিত করা, অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে জনমত সরিয়ে নেয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। তবে এসব বক্তব্যও স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরাইলের তেলআবিবের উদ্দেশে যাত্রা করা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান হঠাৎ উচ্চতা হারায়। প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে মাত্র দুই মিনিটে বিমানটি নেমে আসে ১৭ হাজার ফুটে। পরে অভিযোগ ওঠে, কো-পাইলট ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় দায়িত্বের বাইরে থাকা একজন পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিমানটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৭ জন শিশু।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ঘটনার দুই দিন আগে রোববার নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতে অত্যন্ত গোপন সফর করেছিলেন। বিমানটির ঘটনা সামনে আসার পর নেতানিয়াহু ও ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ দ্রুত এটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেন। নেতানিয়াহু ঘটনাটির সাথে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত হামলারও তুলনা করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার ইসরাইলের
বিমানটির ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসের বক্তব্য, এ ধরনের অভিযোগের মাধ্যমে আবারও ইহুদিদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। দূতাবাস এ বক্তব্যকে ইহুদিবিদ্বেষী বলেও আখ্যা দিয়েছে।
বিমানটির ঘটনা নিয়ে ইরানি সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ এবং ইসরাইলের পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে মূল ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ও তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)