Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসের বিক্ষোভ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসের বিক্ষোভ

সংগ্রিহিত ছবি

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। কোথাও আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামানও ব্যবহার করেছে পুলিশ।

দিল্লির যন্তর-মন্তরে সিইসির পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে কংগ্রেসের যুব সংগঠনসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। পরে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ করার কারণে তাদের আটক করা হয়েছিল এবং পরে ছেড়ে দেয়া হয়।

কংগ্রেসের যুব শাখার সভাপতি উদয় ভানু চিব অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে ১৩ কোটির বেশি ভোটারের নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। তিনি সিইসির পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে প্রতিবাদ করার হুঁশিয়ারিও দেন।

দিল্লির বাইরে পাটনা, গুয়াহাটি, চণ্ডীগড় ও লখনউসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। আসামে কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গৌরব গগৈসহ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। পাটনা ও চণ্ডীগড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে।

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করা হবে। পরে তা ভারতের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও সিজেপির ২ অক্টোবর থেকে আন্দোলনের ঘোষণার কথা এসেছে।

জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত *দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস*-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও আদেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের আপত্তির বিষয়গুলোর মধ্যে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়া, নাম পুনর্বহাল এবং ভোটার তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে বিহারে শুরু হওয়া বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর কার্যক্রমের আওতায় ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে। তবে এ প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ভিন্ন।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে বলা হয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্তগুলো স্বচ্ছতা ও আইনি কাঠামো অনুসরণ করেই নেয়া হয়েছে। কমিশন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে মতপার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয় এবং সব কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন