সুদানে সোনার খনিতে ভয়াবহ ধসে ৬০ শ্রমিকের প্রাণহানি
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সুদানের পশ্চিম কর্দোফান অঞ্চলের এল-নাহুদ শহরের কাছে ‘আল-জারা’ সোনার খনিতে ভয়াবহ ধসের ঘটনায় অন্তত ৬০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সোনার খনির বেশ কয়েকটি সুড়ঙ্গ ভেঙে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন বেঁচে যাওয়া শ্রমিকেরা।
দুর্ঘটনাস্থলে বেঁচে যাওয়া শ্রমিক খায়ের আল-সাইয়েদ জাবারা ও আল-আমিন সুলাইমান জানান, এখানকার খনি সুড়ঙ্গগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি থাকায় একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়ার পরপরই পাশের সুড়ঙ্গগুলোও ধসে পড়ে। কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় উদ্ধারকারীরা সোনা উত্তোলনের সাধারণ সরঞ্জাম দিয়েই রাতভর মরদেহ ও জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান।
তবে ভারী পাথর ও মাটি সরানো কঠিন হয়ে পড়ায় এবং মাটির নিচে এখনো অনেকে আটকে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) যুদ্ধ চলায় দেশটির অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক কর্মহীন মানুষ জীবিকার তাগিদে আল-জারার মতো পরিত্যক্ত ও অনানুষ্ঠানিক ক্ষুদ্র খনিগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে সোনা উত্তোলনের কাজ করছেন।
বর্তমানে পশ্চিম কর্দোফান অঞ্চলটি আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ও তাদের প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানে বড় পরিসরে কোনো সরকারি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গৃহযুদ্ধ সত্ত্বেও গত বছর সুদানে রেকর্ড ৭০ টন সোনা উৎপাদিত হয়েছে, যা আফ্রিকায় দেশটিকে শীর্ষ সোনা উৎপাদনকারীদের একটি হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে। সংঘাতের কারণে তীব্র খাদ্যসংকটের মধ্যেও দেশটির এই ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষুদ্র খনি শিল্পে ২০ লাখের বেশি মানুষ নিয়োজিত রয়েছেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)