সৌদিতে হুতিদের হামলা, ১৩ জন আহত
জরুরি সতর্কতা জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
সংগৃহীত ছবি
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত এলাকায় একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবারের এ হামলায় কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে হুতিরা। হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
হুতিদের ভাষ্য, হামলায় সামরিক ঘাঁটির বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে এবং গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করা হয়। হামলার পর খামিস মুশাইতসহ সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আরো তিনটি শহরে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে হুতিরা। লোহিত সাগরের প্রবেশপথের গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সৌদি আরবে জরুরি আলোচনা চলছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নির্ধারিত বৈঠকও স্থগিত হয়েছে।
হুতিদের হামলার জবাবে সৌদি ও ইয়েমেনি বিমানবাহিনী অভিযান জোরদার করেছে। লোহিত সাগরের ঐতিহাসিক বন্দর মোচাসহ হুতিদের বিভিন্ন অবস্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তাদের দাবি, লোহিত সাগর উপকূলের প্রায় পুরো এলাকাতেই হুতিরা কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
এক ইয়েমেনি কর্মকর্তা বলেন, হুতিদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাল্টা হিসেবে সৌদি আরবের ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে তারা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আরো জোরদার করছে।
এর আগে বৃহস্পতিবারের এক বিমান হামলার পর সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার জন্য ইরানপন্থী ইরাকি মিলিশিয়াদের দায়ী করেছে রিয়াদ। ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটি পারস্য উপসাগর থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়িয়ে তেল পরিবহনের বিকল্প পথ হিসেবে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সৌদি আরবের এই পাইপলাইন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির চলাচল যখন প্রায় স্থবির, তখন এর প্রভাব আরো গুরুতর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পাইপলাইনটি কবে পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো সময়সীমা জানায়নি।
হুতিদের নতুন হামলার প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও পড়েছে। সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। পরে দিনের শেষ দিকে তা প্রায় ১ শতাংশ বেশি দামে স্থির হয়। ইয়েমেনে সংঘাতের নতুন করে বিস্তার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)