Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

মদিনায় বড় ইউরেনিয়াম মজুদের দাবি সৌদির

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ পিএম

মদিনায় বড় ইউরেনিয়াম মজুদের দাবি সৌদির

ছবিঃ রয়টার্স

সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে দেশটি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও সৌদি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমানের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, মদিনার জাবাল সায়িদ প্রকল্প এলাকায় ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে এসব আকরিকের সন্ধান মিলেছে। সৌদি সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ জানিয়েছে, পাওয়া আকরিকে ভারী বিরল খনিজের উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। এর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়াম থাকার কথাও জানানো হয়েছে।

তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের নতুন খাত গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় ইউরেনিয়াম আহরণ এবং বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। ফলে নতুন এই আবিষ্কারকে সৌদির জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম মজুদের এই ঘোষণা সামনে এলো। ইরানের সাথে সৌদির দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় দেশটি ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে বলে মনে করা হয়। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতায় লোহিত সাগরে সৌদির সামুদ্রিক যোগাযোগ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে তেহরানের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচির মাধ্যমে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের দিকে এগোচ্ছে। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য।

সৌদির ইউরেনিয়াম আবিষ্কারের দাবি এমন সময়ে এলো, যখন দেশটির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বাড়ছে। গত জুলাইয়ে দুই দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি সৌদির বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তি সই করে। চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদির পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি উন্নয়নে সহায়তা করবে। একই সাথে মার্কিন সরাসরি তদারকি ছাড়াই সৌদি আরবকে নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তবে মদিনায় আবিষ্কৃত আকরিকের মধ্যে প্রকৃত ইউরেনিয়ামের পরিমাণ কত এবং এর কতটা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য—তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধান, নমুনা পরীক্ষা ও অর্থনৈতিক মূল্যায়নের পরই প্রকৃত মজুদের পরিমাণ ও উত্তোলনের সম্ভাবনা স্পষ্ট হবে।

মন্তব্য করুন