Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

সৌদি পাইপলাইন বন্ধের পর

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড দাম

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড দাম

সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (AAA) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম বেড়ে ৬ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে একই দিনে অপরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ১০৮ ডলার এবং মার্কিন অপরিশোধিত তেল ১০৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর থেকেই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফলে সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের গুরুত্ব আরো বেড়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এটি কবে পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

এর পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতায় বাব আল-মান্দেব প্রণালিও ঝুঁকিতে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নির্ধারিত বৈঠক রবিবার বিকেলে স্থগিত করা হয়। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বৈঠকটি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, রিয়াদের অনুরোধেই বৈঠক স্থগিত হয়েছে।

মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রবিবার ১৪টি, শনিবার ১২টি, শুক্রবার ১১টি এবং বৃহস্পতিবার মাত্র ৯টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।

তেলের বাজারের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা জ্বালানির বাজারেও। সোমবার দেশটিতে সাধারণ পেট্রোলের গড় দাম বেড়ে ৪ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সাধারণ জ্বালানির দাম ৪৫ শতাংশের বেশি এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে ডিজেলের দামে। পণ্য পরিবহনে ট্রাক, জাহাজ ও রেলপথে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় এর দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যায়। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামে পড়তে পারে।

কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়াঙ্কের মতে, ডিজেলের বাড়তি ব্যয় অর্থনীতির প্রায় সব ধরনের পণ্য ও সেবার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্তব্য করুন