রুশ ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সিআইএ প্রধান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
সংগৃহীত ছবি
রাশিয়ার ড্রোন হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রিয়াসকে বহনকারী একটি ট্রেন। ইউক্রেনের রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ট্রেনটির ইঞ্জিনে রুশ ড্রোন হামলার পর এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রোববার ভোরে পশ্চিম ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। এতে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ৪৫০টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ৪০৫টি ড্রোন ও চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে তারা।
ইউক্রেনীয় রেলওয়ের ভাষ্য, ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা, বরিস জনসন ও ডেভিড পেট্রিয়াসকে বহনকারী ট্রেনটি হামলার কয়েক মিনিট আগেই সীমান্ত অতিক্রম করে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ট্রেনটির সময়সূচিও নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিবর্তন করা হয়েছিল।
রেল কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, কূটনৈতিক ব্যক্তিদের বহনকারী ট্রেনটিও রুশ হামলার লক্ষ্য হয়ে থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। হামলার সময় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানান, সীমান্তের কাছে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের দ্রুত ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর কয়েকশ মিটার দূর থেকে ড্রোনের শব্দ শোনা যায়। তবে ট্রেনের কোনো যাত্রী হতাহত হননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বরিস জনসন হামলার নিন্দা করেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের বেসামরিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও রুশ হামলার বাইরে নেই। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা বলেন, এ হামলা শুধু ইউক্রেনের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সীমান্তের কাছেও রুশ আগ্রাসনের বার্তা বহন করে।
হামলার পর পোল্যান্ডেও উদ্বেগ বেড়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জরুরি বৈঠক করে সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে ইউক্রেনে রুশ হামলা আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব পোল্যান্ডের ভূখণ্ডেও পড়তে পারে। সীমান্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অচল বা ধ্বংস করার চেষ্টা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় পোল্যান্ড আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল বলে জানান তিনি।
তবে মস্কো বলছে, হামলার লক্ষ্য কোনো কূটনৈতিক ট্রেন নয়; পশ্চিম ইউক্রেনের সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত রেল অবকাঠামো। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউরোপ থেকে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত রেলপথগুলোই হামলার লক্ষ্য ছিল।
এদিকে হামলার প্রভাব নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সতর্কতা দেখা দিয়েছে। লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসের বিমানবন্দরে ড্রোনের আশঙ্কায় সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পরে সেটি পাখির ঝাঁক বলে নিশ্চিত হওয়ার প্রায় ৪০ মিনিট পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)