সৌদি পাইপলাইন বন্ধে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে ৪% ঘাটতির আশঙ্কা
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি চালু করা না গেলে বিশ্ববাজারে দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
সৌদি আরবের এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রেড সি বা লোহিত সাগরের তীরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠানো হয়, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ। পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে থাকা মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট তিনটি শিল্প সূত্র জানিয়েছে।
সৌদি আরবের বিকল্প হিসেবে মিসরের লোহিত সাগরের আইন সোখনা ও ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দর থেকেও কয়েক দিন তেল সরবরাহ করা সম্ভব। তবে এসব বন্দরের মজুতও সীমিত। ফলে ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইন দ্রুত চালু করা না গেলে সেসব মজুতও শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ইয়ানবু বন্দরে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। আইন সোখনা ও সিদি কেরি বন্দরে যথাক্রমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ও ২ কোটি ব্যারেল তেল সংরক্ষণ করা যায়। তবে এসব মজুত পুরোপুরি পূর্ণ নয়।
রয়টার্সকে দেয়া বিভিন্ন সূত্রের তথ্যে পাইপলাইনটি মেরামতের সময় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা পাওয়া গেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অন্য একটি সূত্রের দাবি, এর চেয়েও কম সময়ে এটি মেরামত করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে মেরামতের কাজ চলার সময় আংশিকভাবে পাইপলাইন চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আগস্টে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সৌদি আরব গত সপ্তাহে ওপেককে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ১ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল থাকলেও আগস্টে তা কমে ৬২ লাখ ব্যারেলে নেমেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহ কমে দৈনিক ৬০ লাখ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)