মুসলিম তালাক আইনকে বৈধ ঘোষণা ভারতীয় আদালতের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
‘তালাক-ই-হাছান’ বর্তমানে ভারতে মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদের একটি বৈধ পদ্ধতি এবং দেশে এর ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানিয়েছে গৌহাটি হাইকোর্ট। আদালত আরো জানিয়েছে, আসামে ২০২৪ সালের ‘অসম বাধ্যতামূলক মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ আইন’-এর অধীনে সংশ্লিষ্ট বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধকের কাছে এ ধরনের বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধন করা যাবে।
বরপেটার সাব-রেজিস্ট্রার-কাম-ম্যারেজ অ্যান্ড ডিভোর্স রেজিস্ট্রার ‘তালাক-ই-হাছান’ নিবন্ধন করতে অস্বীকৃতি জানানোয় করা একটি আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি অরুণ দেব চৌধুরী এ রায় দেন।
আবেদনকারী জানান, ২০১৬ সালে তার বিয়ে হয়। পারস্পরিক মতবিরোধের কারণে তার স্ত্রী ২০১৮ সালে বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।
এরপর আবেদনকারীর স্ত্রী তিনটি ভিন্ন তারিখে—২০২৬ সালের ২২ মার্চ, ২৬ এপ্রিল ও ২৭ মে—সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তিনবার বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের আবেদন করেন।
আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে বলেন, ‘তালাক-ই-হাছান’-এর ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই এবং এর নির্ধারিত শর্ত মেনেই বিবাহবিচ্ছেদ দেয়া হয়েছে।
তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৯৩৫ সালের পুরোনো আইনটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে ওই আইনের অধীনে নিয়োগ পাওয়া কোনো কর্তৃপক্ষ এখন আর বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধন করতে পারে না।
বিচারপতি চৌধুরী বলেন, আবেদনকারী যে ‘তালাক-ই-হাছান’-এর কথা উল্লেখ করেছেন, তা বিবাহবিচ্ছেদের একটি বৈধ পদ্ধতি এবং বর্তমানে ভারতে এটি নিষিদ্ধ নয়।
তবে ১৯৩৫ সালের আইন বাতিল হওয়ায় এবং ওই আইনের অধীনে গঠিত পদও বিলুপ্ত হওয়ায় বরপেটার সাবেক নিবন্ধককে ‘তালাকনামা’ নিবন্ধনের নির্দেশ দিতে অস্বীকৃতি জানান আদালত।
আদালত আবেদনকারীকে ২০২৪ সালের আইনের অধীনে সংশ্লিষ্ট বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধকের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেন। নিবন্ধককে প্রথমে বিবাহবিচ্ছেদটি আবেদনকারীর ওপর কার্যকর হয়েছে কি না এবং তার পরিচয় যাচাই করতে হবে। এরপর আইনটির ১২ নম্বর ধারায় নিবন্ধন প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
নিবন্ধক নিবন্ধন করতে অস্বীকৃতি জানালে আবেদনকারী ২০২৪ সালের আইনের ১৭ নম্বর ধারার অধীনে আবেদন করতে পারবেন।
আদালত আরো জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পরও আদালতে উপস্থিত না থাকা স্ত্রী উপযুক্ত কোনো আদালত বা কর্তৃপক্ষের কাছে ‘তালাক-ই-হাছান’কে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।
এর মধ্য দিয়ে রিট আবেদনটির নিষ্পত্তি করেন গৌহাটি হাইকোর্ট।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)