Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ভূগর্ভে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে ইরান

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

ভূগর্ভে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে ইরান

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত কারখানায় আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও সংযোজন শুরু করেছে ইরান। মজুত থাকা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজির ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাসহ একাধিক সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে তরল ও কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কার্যক্রম চলছে। ভবিষ্যতে হামলার ঝুঁকি কমাতে ইরান আরো ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন কারখানা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু ইরান নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও সংযোজনের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারায় সেই দাবির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত থাকার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত মজুতও কমছে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চললে এতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক তাল ইনবার এবং সিআইএর সাবেক বিশেষজ্ঞ জিম ল্যামসনের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরান বিপুলসংখ্যক ওয়ারহেড, এয়ারফ্রেম ও গাইডেন্স সিস্টেম মজুত করে রেখেছিল। এসব উপাদান কাজে লাগিয়ে দেশটি কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র পুনর্নির্মাণ বা উৎপাদন করতে সক্ষম হতে পারে।

তবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার ফলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সাথে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

অন্যদিকে নৌ-অবরোধ এবং কাঁচামাল আমদানিতে নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের চিত্র দেখা গেছে। সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ, সেতু ও সড়ক পুনর্গঠনের কাজও দ্রুত এগিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কিংস কলেজ লন্ডন ও প্যারিসের সায়েন্সেস পো-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বিস্তৃত সামরিক অবকাঠামো ও ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্ক দেশটিকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম পুনরুদ্ধারে সহায়তা করছে।

মন্তব্য করুন