Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

চাকরি হারালে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে কর্মী ভিসাধারীদের

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১২ পিএম

চাকরি হারালে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে কর্মী ভিসাধারীদের

সংগৃহীত ছবি

 

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য কর্মী ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য বর্তমানে থাকা সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হতে পারে। এতে চাকরি শেষ হওয়ার পর বিদেশি কর্মীদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি নোটিশে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করেছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসাসহ কয়েক ধরনের অস্থায়ী কর্মী ভিসাধারীরা চাকরি হারানোর পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি বা স্পনসর খোঁজার সুযোগ পান। ২০১৭ সাল থেকে চালু থাকা এই ব্যবস্থায় কর্মীরা নতুন নিয়োগকর্তার সন্ধানের পাশাপাশি ভিসার বৈধতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।

চাকরি হারানোর পর ব্যক্তিগত বিষয় গুছিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রেও এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ি বিক্রি, সন্তানদের স্কুল পরিবর্তন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান কর্মীরা। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এই অতিরিক্ত সময় আর থাকবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পর নতুন নিয়োগকর্তা সংশ্লিষ্ট আবেদন করলে কর্মী আবার ওই ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব প্রযুক্তি খাতেও পড়তে পারে। বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভর করে আসছে। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগে এ ভিসার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

বড় এইচ-১বি স্পনসরদের মধ্যে ডেলয়েট, পিডব্লিউসি, আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং এবং টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক ও এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ডিএইচএসের ভাষ্য, নতুন নিয়মে কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মী ব্যবস্থাপনায় সাময়িক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে একই যোগ্যতার মার্কিন নাগরিকদের এসব পদে নিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে বলে মনে করছে বিভাগটি।

ব্যবসায়িক অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেরার্ডি ইমিগ্রেশন ল-এর আইনজীবীদের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বিদেশি কর্মীদের চাকরি হারানো বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হাতে থাকা সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। একই সাথে নিয়োগকর্তাদের মানবসম্পদ বিভাগকেও কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হতে পারে।

প্রস্তাবিত নিয়মের আওতা শুধু এইচ-১বি ভিসায় সীমাবদ্ধ নয়। ই-১ ও ই-২ ভিসা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের জন্য এল-১ ভিসা এবং বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা, ক্রীড়া ও শিল্পকলায় অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ও-১ ভিসাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এ ছাড়া টিএন পেশাজীবী কর্মী, সিঙ্গাপুর ও চিলির নাগরিকদের এইচ-১বি১ এবং অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মীদের ই-৩ ভিসাও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় আসতে পারে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ভিসা-সংক্রান্ত ব্যয় বাড়ানোর পদক্ষেপের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার স্থগিতের ঘটনাও ঘটেছে। নতুন প্রস্তাবকে সেই নীতিরই আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে প্রস্তাবিত নিয়ম এখনো কার্যকর হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রায় দুই মাস জনমত গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ সময়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো প্রস্তাবটির ওপর মতামত দিতে পারবে।

জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পর্যালোচনার পর নিয়মটি চূড়ান্ত করবে মার্কিন প্রশাসন। ফলে আপাতত এইচ-১বি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ভিসাধারীদের জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বহাল রয়েছে। তবে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে চাকরি হারানো বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন কর্মসংস্থান খোঁজার সুযোগ সীমিত হয়ে আসবে।

মন্তব্য করুন