Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে পৌঁছেছেন পুতিন

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে পৌঁছেছেন পুতিন

সংগৃহীত ছবি

ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে তিন দিনের সফরে ভারতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে নয়াদিল্লির পালাম বিমানঘাঁটিতে অবতরণের পর ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং তাকে স্বাগত জানান।

ভারতের ২০২৬ সালের ব্রিকস সভাপতিত্বের অধীনে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের সম্মেলন। এতে সদস্য দেশগুলোর নেতারা বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন।

পুতিনের ভারত সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। রাশিয়ায় ভারতীয় বিনিয়োগ এবং রুশ বাজারে ভারতীয় ব্যবসার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। রাশিয়ার তৈরি সু-৫৭ যুদ্ধবিমান, প্রযুক্তি হস্তান্তর, এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও ব্রহ্মোসসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পারমাণবিক জ্বালানি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। ভারতে নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার আগ্রহের বিষয়টি এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেতে পারে।

ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যে রুশ তেলও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের বড় অংশ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি জাতীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও আন্তঃসীমান্ত লেনদেন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

এবারের ব্রিকস সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রার (সিবিডিসি) মধ্যে সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হতে পারে। আন্তঃসীমান্ত লেনদেন সহজ ও দ্রুত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তবে সদস্য দেশগুলোর ভিন্ন আর্থিক ব্যবস্থা, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও প্রযুক্তিগত জটিলতা এর বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

মোদি-পুতিন বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহনব্যবস্থায় এসব সংঘাতের প্রভাব ব্রিকসের আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

পুতিনের সফরকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলন ঘিরে প্রায় ৩০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন। ফলে মোদি-পুতিন বৈঠকের পাশাপাশি মোদি-শি বৈঠকও এবারের সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হতে পারে।

ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে পুতিনের এই সফরে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, পারমাণবিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন