Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

তেলের দাম ১০৮ ডলার, সরবরাহ নিয়ে নতুন শঙ্কা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

তেলের দাম ১০৮ ডলার, সরবরাহ নিয়ে নতুন শঙ্কা

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সংঘাত তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। বিশ্ববাজারের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে ওঠে। গত মে মাসের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ পর্যায়। তেল সরবরাহে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম আবার ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে সংঘাত বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবে হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দিনশেষে কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৬৩ ডলারে দাঁড়ায়। দিনের হিসাবে দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত ১৯ মে’র পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ সমাপনী মূল্য। একই সাথে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এক দিনে ব্রেন্টের সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধিও এটি।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও একপর্যায়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারে ওঠে। পরে তা কমে ১০২ দশমিক ৪৮ ডলারে স্থির হয়। দিনের হিসাবে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ, যা গত ১৯ মে’র পর সর্বোচ্চ সমাপনী মূল্য।

সংঘাতের কারণে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের ডেপুটি চিফ ইমার্জিং মার্কেটস ইকোনমিস্ট জেসন টুভের মতে, হরমুজ প্রণালি ও সৌদি আরবে হুথিদের হামলা বাড়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, এর ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে জ্বালানির দাম আরো বাড়তে পারে।

এদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো তারা আর ধরে নিচ্ছে না যে আগামী বছরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরবে। একইভাবে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে—এমন প্রত্যাশাও প্রতিষ্ঠানটি আর করছে না।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরজুড়ে তেলের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকতে পারে এবং ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল গবেষণার বৈশ্বিক প্রধান জিম বার্কহার্ড বলেন, সংঘাত ও সমুদ্রপথে অব্যাহত ঝুঁকির কারণে জ্বালানি বাজার নতুন বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নিচ্ছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত জ্বালানির দাম কমে আসার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

মন্তব্য করুন