Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ইরানি ৫ ট্যাংকারে মার্কিন হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তেহরানের

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২২ এএম

ইরানি ৫ ট্যাংকারে মার্কিন হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তেহরানের

ছবিঃ আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) চারটি তেলবাহী জাহাজ ও খার্ক দ্বীপের কাছে থাকা আরও একটি ট্যাংকারে হামলার কথা জানিয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এর জবাবে জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা জানিয়েছে তেহরান।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপসাগরে ইরানের চারটি তেলবাহী জাহাজ এবং ইরানের উপসাগরীয় উপকূলের প্রধান তেল টার্মিনাল খার্ক দ্বীপের কাছে থাকা আরেকটি জাহাজে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব জাহাজ আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের অর্থায়নে ব্যবহৃত বহু বিলিয়ন ডলারের একটি ‘শ্যাডো নেটওয়ার্কের’ অংশ।

এর আগে গত দুই দিনে ইরান একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে দুই দফা হামলার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকমের ভাষ্য, ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা আহত হননি।

ইরানের পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে জর্ডানে থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। জর্ডানের দাবি, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র আরও জানান, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে।

এদিকে ইরান আরও পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরের কাছে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলোর ক্রুদের দ্রুত জাহাজ ত্যাগ করার সতর্কবার্তাও দিয়েছে তেহরান। তাদের ভাষ্য, বন্দরে বা নোঙর করা অবস্থায় থাকা এসব জাহাজও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা অব্যাহত রাখলে প্রতিবারই তাদের ট্যাংকার হারাতে হবে। কলম্বিয়া সফরের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে একটি চালকবিহীন মার্কিন সাবমেরিন দখলের দাবি করে। তবে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত পানির নিচের ড্রোনটি এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে যায়।

হকিন্সের দাবি, আঞ্চলিক জলসীমায় চলমান অভিযানকে সহায়তা করতে ড্রোনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। এটি পুরোনো মডেলের ছিল এবং কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেনি। এতে গোপনীয় সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আঞ্চলিক জলসীমায় মার্কিন অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান সেন্টকমের এই কর্মকর্তা।

দুই দেশের সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। এশিয়ার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৫৫ ডলারে পৌঁছায়।

ইরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে খার্ক দ্বীপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের টার্মিনালের মাধ্যমে রপ্তানি হয়। মূল ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সেখানে পৌঁছানো হয়।

এর মধ্যেই আঞ্চলিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা। মঙ্গলবার সৌদি আরবে জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হামলায় কয়েকটি তেল স্থাপনা ও অবকাঠামোতে আগুন ধরে যায় এবং সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাiইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও পড়ছে।

মন্তব্য করুন