সংগৃহীত ছবি
সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। হুথিদের গণমাধ্যম আনসারুল্লাহর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে এসব হামলা চালানো হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশপাশের আরও কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলার মধ্যেই হুথিদের পক্ষ থেকে সৌদি ভূখণ্ডে হামলার এ দাবি সামনে এলো।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আনসারুল্লাহ জানায়, ইয়েমেনি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। আরেকটি পোস্টে তারা দাবি করে, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং আবহা ও জিজান এলাকায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা হামলার লক্ষ্য ছিল।
তবে হুথিদের এসব দাবির বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার হুথিরা অভিযোগ করে, সৌদি আরব ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলার মধ্যে একটি কারাগারে চালানো হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
হুথিদের সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ জানিয়েছে, জাওফ প্রদেশের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক হাসান সাবুলার বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার একটি কারাগারে হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ২০ জন বন্দি নিখোঁজ রয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
হুথিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে কারাগারে স্বজনের সাথে দেখা করতে যাওয়া একটি শিশুও ছিল।
এদিকে লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক দিনের সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হুথিরা।
লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব আল-মান্দাব আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। সৌদি আরবের তেল পরিবহনের ক্ষেত্রেও এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। অন্যদিকে, ইরান-সংক্রান্ত চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)