মার্কিন অর্থনৈতিক চাপে বাড়ল ইরানে পেট্রোলের দাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বেশি জ্বালানি ব্যবহারকারীদের জন্য পেট্রোলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। রোববার দেশটির সরকার জানিয়েছে, পেট্রোলের তৃতীয় ধাপের দাম দ্বিগুণ করে প্রতি লিটার ১০ হাজার তোমান নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় সময় ৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নির্ধারিত মাসিক কোটার ভিত্তিতে তিন ধাপে পেট্রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়। একজন ভোক্তা প্রতি মাসে প্রথম ৬০ লিটার পেট্রোল কিনলে প্রতি লিটারে ১ হাজার ৫০০ তোমান এবং পরবর্তী ৫০ লিটারের জন্য ৩ হাজার তোমান পরিশোধ করেন। এর বেশি জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এতদিন প্রতি লিটারে ৫ হাজার তোমান দিতে হতো। নতুন সিদ্ধান্তে তৃতীয় ধাপের এই দাম বেড়ে ১০ হাজার তোমানে দাঁড়াল। ইরানে প্রচলিত অনানুষ্ঠানিক মুদ্রা একক তোমান, যা ১০ ইরানি রিয়ালের সমান।
রোববার সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, পেট্রোলের দাম নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বৈঠকে বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্টের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত তৃতীয় ধাপের জন্য প্রতি লিটার ১০ হাজার তোমান নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের দাম অপরিবর্তিত থাকবে।
বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরানে জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন ধরেই তুলনামূলকভাবে কম। সরকার বছরের পর বছর পেট্রোলে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে আসছে। ফলে দেশটিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বরাবরই স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
এদিকে পেট্রোলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ইরানের মুদ্রা রিয়াল আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। রোববার কালোবাজারে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ২২ লাখেরও বেশি রিয়ালে লেনদেন হয়েছে বলে বিনিময় হার পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য জানিয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে এক ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের বিনিময় হার ছিল প্রায় ১৭ লাখ। পরবর্তী সময়ে এপ্রিলের শেষ দিকে রিয়ালের দর কমে এক ডলারে প্রায় ১৮ লাখ রিয়ালে নেমে আসে, যা তখন পর্যন্ত দেশটির মুদ্রার সর্বনিম্ন বিনিময় হার ছিল।
এর মধ্যে গত মাসের শেষদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ইরানকে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে বাধ্য করার লক্ষ্যে দেশটির ওপর ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’ নীতি প্রয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
নতুন মার্কিন পদক্ষেপগুলো ২০১৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিকতায় নেওয়া হচ্ছে। ওই বছর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সাথে করা আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন।
এ ছাড়া ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে দেশটির তেল রপ্তানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)