Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাত

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাত

সংগৃহীত ছবি

তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। রোববার দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করা একটি মার্কিন সামরিক মানববিহীন নৌযানে হামলা চালিয়েছে তারা। এর আগে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় কয়েকটি জাহাজেও আঘাত হানার কথা জানায় ইরান।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের নতুন পর্যায় শুরু হয়। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরান নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে অবরোধ আরও জোরদার করছে ওয়াশিংটন।

তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে আর্থিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইরানকে চাপের মুখে নতি স্বীকারে বাধ্য করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

রোববার আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করা একটি মার্কিন সামরিক মানববিহীন নৌযান তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালীর ‘অনুমোদনহীন পথে’ চলাচল করা তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্য এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও তিনটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। একই সাথে অনুমোদিত পথ ছাড়া হরমুজ প্রণালী অতিক্রম না করতে অন্যান্য জাহাজকেও সতর্ক করেছে ইরানের বাহিনী।

এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরানের আইআরজিসি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ করে সেন্টকম।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ওই হামলার পর খার্গ দ্বীপের উপকূলের কাছে আইআরজিসির তেলবাহী জাহাজ এমটি ডাউনি এবং জাস্কের কাছে এমটি স্টার্ক-১কে স্থায়ীভাবে অচল করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গালফ অব ওমানে থাকা খালি তেলবাহী জাহাজ এমটি কাইলো ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

সেন্টকম জানায়, এমটি কাইলোতে থাকা ক্রুদের জাহাজ থেকে নামিয়ে নেওয়ার পর জাহাজটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করা হয়। মার্কিন বাহিনীর প্রকাশ করা ভিডিওতে ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য অস্ত্রের আঘাতের পর জাহাজগুলো থেকে আগুনের গোলা ও ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

তিনটি জাহাজই আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়নে যুক্ত বহু বিলিয়ন ডলারের একটি গোপন নেটওয়ার্কের অংশ বলে দাবি করেছে সেন্টকম।

অন্যদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য হওয়া দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তবে মার্কিন সেন্টকম এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, যুদ্ধজাহাজ দুটি ইরানের হামলা সফলভাবে এড়িয়ে গেছে।

অভিযানের পর সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ইরান যদি মার্কিন দুটি জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে এর জবাবে আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে। তার ভাষ্য, এরই অংশ হিসেবে ইরানের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।

তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হামলাকে ‘অবৈধ ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তারা।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের জাস্ক থেকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদক জানান, হামলার শিকার ট্যাংকারগুলোর একটি খালি ছিল এবং অন্যটিতে তেল ছিল। জাহাজগুলোর ক্রুদের লাইফবোটে করে নিরাপদে তীরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

খার্গ দ্বীপ থেকেও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের আরেক প্রতিবেদক জানান, সেখানে মার্কিন হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে তেহরানের পাল্টা আক্রমণ আরও কঠোর হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এসব হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইরান।

মন্তব্য করুন