দম্ভের সাথে কাতারে হামলার কথা স্বীকার নেতানিয়াহুর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরাইলি হামলার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। একই সাথে গাজায় কাতারের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ মানবিক সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘আই২৪নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেন তিনি। এতে কাতারকে ‘শত্রুতাপূর্ণ’ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে দোহায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান পরিচালনার কথা জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
দোহায় ওই হামলা চালানো হয়েছিল গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর। গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলার সময় হামাসের একটি বৈঠককে লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়। এতে হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন।
দীর্ঘদিন ধরে কাতার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ২০১২ সাল থেকে দেশটিতে হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয় পরিচালিত হয়ে আসছে। দোহায় ইসরায়েলি হামলার পর কাতার এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশও প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরান ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ এর নিন্দা করে। জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা কাতারের সঙ্গে সংহতি জানাতে দেশটি সফর করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও হামলাটিকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের সময় নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং হামলার জন্য ক্ষমা চান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ইসরাইলের সহযোগিতায় গাজায় পাঠানো এসব অর্থ মানবিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। তিনি বলেন, এই অর্থ গাজায় প্রবেশ করা মোট অর্থের প্রায় ২ শতাংশ।
তবে ইসরাইলের সমালোচকদের একটি অংশের অভিযোগ, এসব অর্থ হামাসের সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। কাতার অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি বলেছেন, কাতারের পাঠানো সহায়তা গাজার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল স্বচ্ছ।
এদিকে ইসরাইলে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এসব বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজা যুদ্ধ, অর্থনীতি এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত ইসরায়েলি রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন ধরে রাখতে তিনি আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তা ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে নেতানিয়াহুর নিজস্ব বক্তব্য হলো, ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষাই তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)